অপরাধ ও দুর্নীতি

সাভারে ৩ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ‘হাইক্কা ডাকাত’ গ্রেপ্তার

হাইক্কা ডাকাতের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া ডিবি পুলিশ ও র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল

তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভারের রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি সেটসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের প্রধান মো.আব্দুল হাকিম জোমাদ্দার হাইক্কা ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। র‍্যাব বলছে, গ্রেফতার হাইক্কা ডাকাতের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া ডিবি পুলিশ ও র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল।

প্রায় ১৩ মাস আগে টাঙ্গাইলে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রেফতার হন তিনি এবং গত ২৩ দিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও ছিনতাই, ভুয়া র‍্যাব-পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ ১৮টির বেশি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত র‍্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব বলেন র‍্যাব-৪ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. নাজমুল ইসলাম।

মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গত ১৬ আগস্ট রাতে র‍্যাব-৪ এবং র‍্যাব সদর দপ্তর, ইন্ট উইং সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর রামচন্দ্রপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রাধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের প্রধান মো. আব্দুল হাকিম জোমাদ্দার হাইক্কা ডাকাতকে (৫০) গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ম্যাগজিন, ২ রাউন্ড তাজা গুলি এবং পুলিশের ব্যবহৃত ২টি হ্যান্ডকাফ ও ১টি ওয়াকিটকি সেট জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গ্রেফতার আসামি একজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার নিয়ন্ত্রণে সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া ডিবি পুলিশ ও র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে আব্দুল হাকিম জোমাদ্দারসহ কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর রামচন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থান করছেন। তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের প্রধান মো.আব্দুল হাকিম জোমাদ্দারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার আসামি জব্দ অবৈধ অস্ত্র দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আসামি আব্দুল হাকিম জোমাদ্দার ১৩ মাস আগে টাঙ্গাইলে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রেফতার হন এবং গত ২৩ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ ১৮ টির বেশি মামলা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এছাড়াও, আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের যোগানদাতা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই চক্রের অন্য সদস্যরা এবং তাদের সহযোগিতায় যারা ছিল, তাদের নাম সে প্রকাশ করেছে। গোপনীয়তার শর্তে আমরা তাদের নামগুলো এখানে প্রকাশ করছি না। তবে তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।

এই চক্রের রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে নাকি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গ্রেফতার আসমিকে জিজ্ঞাসাবাদে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাইনি।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা আসামি গ্রেফতারের সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পালানোর উদ্দেশে ছাদ থেকে লাফ দেওয়ায় আসামি আহত হন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button