আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় তিন নারীসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে
তাজা খবর: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে তিন নারীসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র মরদেহ এবং ভাড়া বাসা থেকে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহও উদ্ধার করেছে পুলিশ। অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের টংগাবাড়ী বঙ্গবন্ধু রোড পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় হাজী খালেকের ভাড়া বাড়িতে আখি আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূ নিহত হন। পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জাহিদ হাসানের (২৭) বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত স্বামী জাহিদ হাসানকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আখি আক্তার শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। আটক জাহিদ একই জেলার নালিতাবাড়ী থানার সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামের এক দুবাইপ্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রোকসানা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকার প্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হন রোকসানা। দীর্ঘক্ষণ নিচে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ছাদে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণকেন্দ্রিক চাঁদা দাবি, আর্থিক লেনদেন কিংবা পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধ—সব দিক মাথায় রেখে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার শিমুলিয়ার পাগলাবাজার সংলগ্ন এলাকায় দেলোয়ার হোসেন দেওয়ানের ভাড়া বাড়ি থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক নারী পোশাকশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তানিয়া পলমল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার বাগডাঙ্গা এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতের গলায় স্পষ্ট আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় কাজী মো. আব্দুল আউয়ালের ভাড়া বাসা থেকে তরিকুল (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, সকালে তার স্ত্রী মরিয়ম (৩২) কর্মস্থলে যাওয়ার সময় স্বামীকে ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে যান। দুপুরে ফিরে তিনি ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচানো অবস্থায় তরিকুলের মরদেহ ঝুলতে দেখেন।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার হওয়া চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
ওসি বলেন, ‘দুইটা সুনিশ্চিত মার্ডার আর একটাকে আমরা আশঙ্কা করছি মার্ডার। তবে ময়নাতদন্তের পর বোঝা যাবে। সকালে এক গৃহবধূ নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’



