অপরাধ ও দুর্নীতি

আশুলিয়ায় ক্লুলেস তানিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার

ধস্তাধস্তি- একপর্যায়ে প্রাণ হারান পোশাকশ্রমিক তানিয়া

তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভারের আশুলিয়ায় একই কারখানায় কাজ করতেন দুজন। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কথাকাটাকাটি, এরপর ভাড়াবাসায় ধস্তাধস্তি- একপর্যায়ে প্রাণ হারান পোশাকশ্রমিক তানিয়া। হত্যার পর তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সিম কার্ড নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে হত্যাকারী সহকর্মী ইউসুফের বিরুদ্ধে।

ঘটনার তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মুঠোফোন ও সিম কার্ড।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ইউসুফ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টারদিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম।

গ্রেপ্তার ইউসুফের (২৭) বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার বাঁশজানী গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আজগর আলী। তিনি আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকার বাসেদ কলোনিতে আরিফের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকার পলমল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার কাটিং সেকশনে কর্মরত তানিয়া ও ইউসুফের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই রাতেই তানিয়ার ভাড়াবাসায় তাঁদের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ইউসুফ পেছন দিক থেকে তানিয়ার গলা চেপে ধরেন। এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তানিয়াকে মৃত ভেবে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সিম কার্ড নিয়ে সেখান থেকে চলে যান ইউসুফ।

পরদিন ৭ অক্টোবর তানিয়ার সহকর্মী ও স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আশুলিয়া থানা পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের দিকনির্দেশনায় আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল গত ৮ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে কবিরপুরের পলমল গার্মেন্টস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে তানিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরদিন ৯ অক্টোবর তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম বলেন, তানিয়া হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর হেফাজত থেকে নিহতের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button