চুরির অপবাদে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে বাবাকে খাওয়াল ৯ বছরের মেয়ে
জমিজমা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে
তাজা খবর: বরিশালের উজিরপুরে চুরির অভিযোগে এক যুবককে রাতভর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ৯ বছর বয়সী মেয়েটি বাবার জন্য রুটি ও চা কিনে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়। বাবা-মেয়ের এই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এমন একটি দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারসংলগ্ন সরদার বাড়িতে। খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা যুবকের নাম অনিক সরদার। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাজারসংলগ্ন একটি বাড়িতে চুরি করতে গেলে অনিককে আটক করা হয়। পরে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আয়াত খন্দকার বলেন, এর আগেও অনিক ওই বাড়িতে একাধিকবার চুরির চেষ্টা করেছেন বলে তাদের অভিযোগ ছিল। এ কারণে কয়েক দিন ধরে তারা তাকে ধরার জন্য নজর রাখছিলেন। শুক্রবার রাতে বাড়ির উঠানের সামনের জানালা খুলে মোবাইল ফোন নেওয়ার সময় তাকে ধরে ফেলা হয়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে বেঁধে রাখেন।
তবে অনিককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আয়াত খন্দকার।
এদিকে বাবাকে চুরির অভিযোগে ধরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তার ৯ বছর বয়সী মেয়ে তুবা বিনতে অরনি। বাজার থেকে এক কাপ রং চা ও একটি রুটি কিনে সে বাবার পাশে বসে নিজ হাতে খাবার তুলে দেয়। সারারাত না খেয়ে থাকা বাবাকে মেয়ের এভাবে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য উপস্থিত লোকজনকে আবেগাপ্লুত করে।
ঘটনাটি স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ঘিরে নির্যাতনের অভিযোগ এবং শিশুটির বাবার প্রতি মমতা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “চুরি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু সারারাত না খাইয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা অমানবিক। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল।”
তবে অনিক সরদারের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী দাবি করেছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তার অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে তার স্বামীকে চোর আখ্যা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা ও নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অনিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের ভাষ্য, তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। অতীতে চুরির অভিযোগে কয়েকবার আটক হলেও মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে জানতে পারে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা অনিকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



