শিক্ষা ও সংস্কৃতি

জাবি শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় একাডেমিক নিপীড়নের অভিযোগ, বিভাগে তালা

তাজা খবর: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একাডেমিক নিপীড়ন ও অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করাসহ আট দফা দাবিতে বিভাগের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সহপাঠীরা। একই সাথে তারা বিভাগের সভাপতি ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয় থেকে এসে বিভাগের ফটকগুলোতে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তালা খুলবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১২ ঘণ্টার মধ্যে মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করা, তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ শামের পদত্যাগ, সংশ্লিষ্ট কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন, কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যাচকে হয়রানি কিংবা লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করা, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিত করা বিভাগে দ্রুত ছাত্র সংসদ কার্যকর করা এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।

নিখোঁজ মোহাইমিনুল ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। সহপাঠীদের অভিযোগ, বিশেষ পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন তিনি। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও বিভাগের শিক্ষকদের কাছে বারবার ধরনা দিতে হয়েছে তাকে। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলে আসন্ন মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে তার শিক্ষাজীবনের এক বছর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি সহপাঠীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকাল ৩টা ৮ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। পরে হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। নোটে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, “ছয় মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে।” এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মোহাইমিনুলকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নোটে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। মোহাইমিনুলের পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন উপাচার্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button