সারা বাংলা

সাভারে অটোরিকশা চালকদের ধর্মঘট

চালকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে

তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভার পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ বিল ও চার্জিং খরচ কমানোসহ ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা ধর্মঘট করেছেন। বুধবার চালকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি জানান।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন চালকেরা। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুরের দিকে বিভিন্ন এলাকার চালকেরা এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে তারাপুর মাঠে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

একপর্যায়ে চালকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করে। পরে অটোরিকশা চালকদের একটি প্রতিনিধিদল পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যার কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি জানায়।

চালক ও গ্যারেজ মালিকদের দাবি, বিদ্যুতের বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার খরচ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে রিকশার দৈনিক জমার টাকাও। তবে সে তুলনায় তাঁদের আয় বাড়েনি। বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে চালকেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন বলে তাঁরা জানান।

সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক ফয়সাল আহমেদ জানান, তাঁর গ্যারেজে প্রতিদিন গড়ে ২০টি অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়। এক মাস আগেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৫০ থেকে ৫২ হাজার টাকা। গত মাসে বিল এসেছে এক লাখ টাকার বেশি। এভাবে গ্যারেজ চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফয়সাল আহমেদ বলেন, আগে প্রতিটি অটোরিকশা চার্জ দিতে ১৭০ টাকা নেওয়া হতো। বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় এখন ২৫০ টাকা করে নিতে হচ্ছে। চালকেরা বাড়তি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় নিরুপায় হয়ে চার্জের খরচ বাড়াতে হয়েছে।

অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আগে রিকশার দৈনিক জমা ছিল ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৬০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে চার্জের খরচ ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আয় না বাড়ায় বিদ্যুৎ বিল ও রিকশার জমা পরিশোধের পর দিন শেষে হাতে তেমন কিছুই থাকে না।

নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘আমার বাবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বাবার চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ আমার একার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরও এক চালক ওয়াহেদ মিয়া বলেন, প্রতিদিন ৬০০ টাকা রিকশার জমা ও ২৫০ টাকা চার্জের খরচ পরিশোধের পর দিন শেষে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকার বেশি আয় থাকে না। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিল ও চার্জিং খরচ কমানোসহ ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button