আন্তর্জাতিক

বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক দিলো বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশ শুরু থেকেই মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

তাজা খবর: জাতিগত বৈষম্য ও বর্ণবাদ নির্মূল করে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (২৩ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মারক সভায় এই আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সব আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে এই অভিশাপ নির্মূলে দেশের অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে রাখাইন ও গাজায় চলমান বর্ণবাদমূলক নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে তাদের সীমিত প্রবেশাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি জাতিসংঘের মূল আদর্শের পরিপন্থি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ শুরু থেকেই মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি।’

বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তিনটি বিশেষ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বর্ণবাদবিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরি। এর পাশাপাশি তিনি অনলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা ‘হেট স্পিচ’ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ জোরদার করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button