রাজনীতি

আইনজীবী থেকে আইনমন্ত্রী হলেন আসাদুজ্জামান

অ্যাডভোকেট আসাদ আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

তাজা খবর: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি। মন্ত্রী হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন তার সংসদীয় এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকূপায়।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ র‌্যালি বের করেন।

শৈলকূপা উপজেলা শহরের চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে নেতাকর্মীরা মিষ্টি মুখ করেন সেই সাথে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। সেসময় নেতাকর্মীরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বিগত দিনের মতো ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের প্রয়াত স্কুল শিক্ষক বাবার ছয় সন্তানের মধ্যে মেঝো তিনি। দুই কন্যা সন্তানের জনক আসাদুজ্জামান। তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি হাইকোর্ট ডিভিশনে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৫ সালে আপিলেট ডিভিশনে নিয়োগ পান।

অ্যাডভোকেট আসাদ আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। সে সময় বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা জট কমানো, আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় তার প্রস্তাবগুলো ব্যাপক গুরুত্ব পায়। এসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বর্তমান সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আইন পেশা থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কারণ তারা আইনের প্রয়োগগত সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষভাবে জানেন এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ফলে নীতিনির্ধারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়। একজন আইনজীবীর আইনমন্ত্রী হয়ে ওঠা তাই কেবল ব্যক্তিগত পদোন্নতি নয়, এটি বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলনের একটি প্রক্রিয়া। আমি আশাবাদী এ প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফল হবেন আসাদুজ্জামান।’

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পান অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button