রাজনীতি

চমকপ্রদ সব সিদ্ধান্তে নতুন শুরুর ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাতায়াতের সিদ্ধান্ত

তাজা খবর: নির্বাচনে জয়লাভের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে চমকপ্রদ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরমধ্যে সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের গাড়ি কমিয়ে আনা, তার চলাচলের সময় রাস্তার দুইপাশে সারি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকার সিদ্ধান্তও বাতিল করেছেন তিনি।

পাশাপাশি প্রতি শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অফিস করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাজে গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুটি কার্যদিবস পার করে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়া এসব সিদ্ধান্ত অনলাইন এবং অফলাইনে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। সবাই বলছেন, এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অনেক কিছুই বদলে যাবে।

সরকার গঠনের আলোচিত যত সিদ্ধান্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। শপথের পর বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) ডিউটি ফ্রি (শুল্কমুক্ত) গাড়ি বা প্লট নেবেন না মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নতুন সরকারের সংসদীয় দলের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত সব প্রটোকল ঝেড়ে ফেলা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ না নেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি গাড়ি নয়, ব্যক্তিগত গাড়িতেই চলাফেরা করবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের ক্রয় করা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজ বহরে থাকা ১৩-১৪টি গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মাত্র চারটি করেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকও বেশিরভাগ সময় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের দীর্ঘ অবস্থানও বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাধারণ চলাচলের সময় গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করে, কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রুমন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

এদিকে নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের বিষয়েও বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের সুফল দ্রুত পৌঁছে দিতে কাজ শুরু হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে নিরলসভাবে কাজ করারও কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এর জন্য শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এসব সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে নতুন বাংলাদেশ তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে বিশ্বাস সবার।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি বলেছিলেন, ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করবে সরকার। এ সময়ের মধ্যে গৃহীত কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া রমজানে যেন স্বস্তিদায়ক পরিবেশ থাকে, সেদিকে নজর দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও বলেছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম কমিশনের প্রস্তাবও হাতে আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা হবে।

বৈঠক বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছিলেন, জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে সে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মো. নুরুল হক নুর বলেন, দুর্নীতির প্রভাবমুক্ত হয়ে দৃশ্যমান কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতেও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button