সারা বাংলা

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্কারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সমস্যার সমাধান করা হবে

দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়াকে ঘিরে সাংবাদিকদের যে নানা সমস্যা রয়েছে

তাজা খবর: নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তথ্য মন্ত্রণালয়কে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়াকে ঘিরে সাংবাদিকদের যে নানা সমস্যা রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্র্যাব আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে হাত দিতে গিয়ে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় সামনে আসছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্রের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা সাধারণভাবে এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হন। ফলে যেসব মন্ত্রণালয় পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, সেখানে সেই দক্ষতা গড়ে ওঠার সুযোগ কম থাকে।

তিনি বলেন, বিসিএসের সাধারণ ক্যাডারের যে যোগ্যতা, বাংলা-ইংরেজিতে দক্ষতা বা কিছু সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই যথেষ্ট নয়। জনসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হয় এবং তা আলাদাভাবে অর্জন করতে হয়। সেই জ্ঞান চর্চার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কোর্সও থাকা দরকার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আমরা এভাবে কাজ করে উঠতে পারি না। ফলে ভুল বোঝাবুঝিও তৈরি হয়।

মানুষের মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি ইন্টারনেট প্রাপ্তির বিষয়টিও এখন নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়কে পরিপূর্ণভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য চিন্তা করছি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে মানুষের অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা যায়। কারণ এখনকার যুগে শুধু অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মধ্যে মৌলিক অধিকার সীমাবদ্ধ নেই। এগুলোর পাশাপাশি ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রাপ্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল অধিকার ও ডিজিটাল সেবাগুলোও মৌলিক অধিকারের অংশ হয়ে যাচ্ছে। যদিও এখনো আমরা এসব বিষয়কে সাংবিধানিক বা লিখিত কাঠামোর মধ্যে সেভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি, কিন্তু বিষয়টি ক্রমেই অনিবার্য হয়ে উঠছে।

বর্তমান সরকার প্রচলিত রাজনীতিবিদদের মতো করে দেশ পরিচালনা করতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সরকার দেশনায়ক তারেক রহমানের সরকার। আমরা ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করতে চাই বলেই আগে সমস্যাগুলো বুঝতে চাইছি। প্রচলিত রাজনীতিবিদদের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে, যেখানে নদী নেই সেখানে সেতু নির্মাণের কথা বলা বা অবাস্তব স্বপ্ন দেখানোর পথে আমরা যেতে চাই না।

তিনি বলেন, সমাজ ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাষ্ট্রের ভেতরে যে ঘুণে ধরা রোগ রয়েছে, সেটি আগে বুঝতে চাই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button