রাজনীতি

তারেক রহমানের সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা বোঝে: তথ্যমন্ত্রী

তারুণ্যের সাহস ও উদ্দীপনা প্রয়োজন

তাজা খবর: দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে নানা মহলে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তারেক রহমানের সরকার এসব ষড়যন্ত্রের গভীরতা বোঝে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করছে বলেই প্রতিক্রিয়াশীল ও উত্তেজনাকর বক্তব্যের পরিবর্তে সমস্যার মূল সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমরা বিএনপি পরিবার যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা জড়িয়ে আছে। নব্বইয়ের দশকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আজকের গণঅভ্যুত্থানের প্রজন্ম তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, তারুণ্যের সাহস ও উদ্দীপনা প্রয়োজন, কিন্তু অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এটি স্বীকার করার মধ্যে কোনো হীনমন্যতা নেই। বরং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংসদের ছোটখাটো বিষয় রাজপথে এনে উত্তেজনা সৃষ্টি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভাজন ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জনগণ যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তখন দায়িত্বশীল আচরণ করাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তব্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ৫ আগস্ট রাজপথে ফয়সালা হয়েছে। এরপর জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ তাদের রায় দিয়েছে।

‘ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা’-এ মন্তব্য করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখন আন্দোলন নয়, দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, ভিআইপি মোটরের স্বত্বাধিকারী ভাস্কর নাজম, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার প্রমুখ।

এর আগে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button