সারা বাংলা

নজরুলের কবিতা দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রেরণায় উজ্জীবিত করে: তথ্যমন্ত্রী

মনোজগৎ গঠনে নজরুলের গভীর প্রভাব রয়েছে

তাজা খবর: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের প্রেরণা জাগিয়ে তোলে।

তিনি বলেন, যারা শৈশব ও কৈশোরে নজরুলের কবিতা পড়ে বড় হয়েছেন, তাদের মনোজগৎ গঠনে নজরুলের গভীর প্রভাব রয়েছে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, কৈশোরে যারা নজরুলের কবিতা পড়ে, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার অনুপ্রেরণা তৈরি হয়।’

মন্ত্রী বলেন, খুব স্বল্প সময়ের কর্মজীবনে নজরুল যে অসামান্য সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে মাত্র ২১ বা ২২ বছরের কর্মজীবনে একজন মানুষ এত বিপুল প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেন—এটা সত্যিই বিস্ময়কর। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, সংগীতসহ এত বিস্তৃত ক্ষেত্রে বিচরণ করে তিনি যে রচনা সম্ভার রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও চেতনা কেবল ব্যক্তিমানুষকে নয়, জাতির সামষ্টিক চেতনাকেও প্রভাবিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির ইতিহাসে যত বড় বড় ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে নজরুল চেতনার একটি বিরাট অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর যে সাহস, বুক চিতিয়ে আত্মত্যাগ করার যে মানসিকতা, তার নেপথ্যে সমাজ ও মনোজগতে নজরুলের উপস্থিতি অনুভব করা যায়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো নজরুলের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তা জাতির সমষ্টিগত চেতনায় রূপান্তর করা।

তিনি বলেন, সব মানুষ নজরুল গবেষক হবেন না, কিন্তু যত বেশি মানুষের মধ্যে তার চেতনাকে প্রবিষ্ট করা যাবে, সেটাই হবে জাতির জন্য বড় সম্পদ।

তিনি বলেন, এক হাতে তিনি গজল লিখেছেন, অন্য হাতে কীর্তন ও শ্যামাসংগীত রচনা করেছেন। কোথাও তিনি প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার কথা বলেছেন, আবার কোথাও যুদ্ধ ও সংগ্রামের চেতনা তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদের (রেজাউদ্দিন স্টালিন) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কবি ও লেখক হাসান হাফিজ, আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নজরুল সাধক ও গবেষক ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button