অপরাধ ও দুর্নীতি

সাভারে চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টা, চালকের পর এবার হেলপার গ্রেফতার

গাজীপুরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওছার হোসেন সানজিদকে (হেলপার) গ্রেফতার

তাজা খবর: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আলোচিত মামলায় বাসচালকের পর এবার প্রধান অভিযুক্ত চালকের সহকারীকে (হেলপার) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজীপুরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওছার হোসেন সানজিদকে (হেলপার) গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এর আগে রোববার ভোররাতে সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বাসচালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে মামলার অভিযুক্ত দুই আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

ধর্ষনচেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী গত ১৩ জুলাই আশুলিয়া থানায় বাসচালক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণচেষ্টা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত কাওছার হোসেন সানজিদ পরিচয় গোপন করে অন্য পেশায় যুক্ত হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকার শাহ আলমের বাড়িতে তার অবস্থায় দেখায়। সানজিদ ওই বাড়িতে তার নাম ও পরিচয় পাল্টে আত্মগোপনে বসবাস শুরু করে একটি স্থানীয় ‘কুরিয়ার সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে নতুন করে চাকরি নেয়। পুলিশ তার অবস্থান নির্ণয় করে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাতে নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফিরছিলেন এক নারী পোশাক শ্রমিক। চন্দ্রা চৌরাস্তা থেকে তিনি সাভারগামী ইতিহাস পরিবহণের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছার পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কাউকে বাসে উঠতে দেননি। একা হয়ে পড়ায় ওই নারী বারবার বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে বাসচালক ও হেলপার তাদের গাড়ি থামানোর পরিবর্তে আরও গতিতে চালিয়ে নির্জন স্থানে চলে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিজের সম্ভ্রম ও জীবন রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দেন ওই নারী। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আশুলিয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত সানজিদ তার নাম পরিচয় পরিবর্তন করে গাজীপুরের বাসন থানার শাহ আলমের বাড়িতে বসবাস করে ছদ্মনামে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ির চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আনোয়ার হোসেন জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহণের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং বাসের চালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজুকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ওই নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গণপরিবহণে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে যাত্রীশূন্য বাসে নিরাপত্তাহীনতা, চালক-হেলপারদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এবং পরিবহণ খাতে তদারকির দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button