সাভারে চোখে সুপার গ্লু দিয়ে ৮ বছরের শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন!
এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়
তাজা খবর: ঢাকার সাভারে সাত বছরের এক শিশুকে নির্যাতন ও দুই চোখে ‘সুপার গ্লু’ আঠা লাগিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বংশী নদীর তীরে একটি পার্কসংলগ্ন সড়কের পাশে শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। এ সময় শিশুটি চিৎকার করে বলছিল, ‘আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না।’ পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, আহত শিশুর নাম মো. ওয়াহেদ। সে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির শরীরজুড়ে মারধরের চিহ্ন ছিল। তার দুই চোখের পাতা আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া হয় এবং চোখ থেকে রক্ত ও পানি ঝরছিল। পথচারী শিরিনা আক্তার বলেন, শিশুটির কণ্ঠ শুনে তিনি এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি জানায়, তার বোনের স্বামী রাজ্জাক তাকে মারধর করে একপর্যায়ে চোখে আঠা লাগিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
শিশুটির সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন জানান, সকালে তিনি জানতে পারেন, রাজ্জাক বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে। শিশুটির মা সাহিদা বেগম বলেন, তিনি কর্মস্থলে থাকাকালে এ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তার সন্তানের অবস্থা গুরুতর।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদ আল হাসান বলেন, শিশুটির দুই চোখ আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং চোখে আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া স্থানটি ধামরাই থানার অধীনে। পরে ধামরাই থানার ওসিকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে শিশুটির পরিবারের কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাজ্জাক পলাতক আছেন।



