সাভারে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় প্রধান আসামি রফিক গ্রেপ্তার, কারাগারে ৫
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেদে পল্লী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়
তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভারে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে কালা রফিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেদে পল্লী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম সাভার পৌরসভার বক্তারপুর পোড়াবাড়ি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
এর আগে ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাদের ঢাকার একটি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর এলাকার মো. রতনের ছেলে আরিফ ইসলাম (২০), একই এলাকার মো. মহির উদ্দিনের ছেলে সাগর মিয়া (২৩), বক্তারপুর তিন রাস্তার মোড় এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে মো. মারুফ (২০), পোড়াবাড়ি এলাকার মো. হাসানের ছেলে মো. হুমায়ুন (১৯) এবং বক্তারপুর এলাকার বাবুলের ছেলে মো. রাকেশ মাল (৩০)। তারা সবাই রফিকুল ইসলামের মাদক সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে বক্তারপুর বালুর মাঠ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি তার সহযোগীদের ঘটনাস্থলে জড়ো করেন।
একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা পুলিশের অভিযানে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে। পুলিশের পরিচয় দেওয়ার পরও তারা হামলাত্মক আচরণ করে। এ সময় রফিকুল ইসলাম একটি ইট নিক্ষেপ করে সাভার মডেল থানার এসআই এস এম শামীমের মুখে আঘাত করলে তিনি মুখ ও ঠোঁটে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে এএসআই মশিউর রহমানকেও লাঠি, রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়।
হামলায় আহত দুই পুলিশ সদস্য মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর আরও আক্রমণ চালায় এবং ভবিষ্যতে বেদে পল্লী এলাকায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে হামলা মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। হামলার ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”



