সারা বাংলা

সাভারে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে থানা ছাত্র দলের সহ সভাপতিকে হত্যার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

নিহতের পরিবার  পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন

তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভারে পুলিশের অভিযান কালে ৫ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে থানা ছাত্র দলের সহ সভাপতি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মনোয়ার হোসেন বকশীকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার  পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ  তার লাশ নিথর দেহ দেখতে পেয়ে দৌড়ে গাড়ীতে ওঠে ঘটনা স্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার সন্দেহ  বেড়ে যায়।

শুক্রবার সকালে ঘটনায় খবর পেয়ে  বিএনপি, ছাত্র দল, যুবদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী গণ নিহতের বাসায় ভীড় করেন। তারা দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতের পিতা সাভারে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নিরাপত্তা কর্মী মুহম্মদ জাফর আলী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত  ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল এসে কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় তাদের ৫ তলা ভবনের  ৪ তলায় প্রবেশ করে তল্লাশি করে। পুলিশ  তার দুই ছেলে ও মেয়ের ঘরের নাতি শাহরিয়ার কবির সৌমিককে খোঁজ করেন। নাতি পছন্দ করে আদালতে গিয়ে তার সমবয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। এ ঘটনা নিয়ে মেয়েটির বাবা পীরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তারা আগেই খবর পেয়েছিলেন। নিহতের পিতা জাফর আলী আরও বলেন ঘটনার সময় ছোট ছেলে মনোয়ার হোসেন বকশি পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে সন্দেহের বশবর্তী  হয়ে বাসার ছাদে অবস্থান নেয়।

এ সময় একজন পুলিশ সদস্য দৌড়ে ছাদে যান। এ ঘটনার কিছুক্ষন পরই বিকট শব্দে বাসার নীচে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়।   এ সময় পুলিশ ও বাসার সদস্যরা নীচে নেমে মনোয়ার হোসেন বকশীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান। এ দৃশ্য দেখার পর পুলিশ ঘটনা স্থলে না দাড়িয়ে এবং তাকে উদ্ধার না করে তড়িঘড়ি করে দৌড়ে গাড়ীতে চড়ে স্থান ত্যাগ করে। তারা চলে যাওয়ার সময়ে কয়েক জন সাধারণ পোশাকের মানুষকে তাদের সাথে গাড়িতে চড়তে দেখা গেছে বলে নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান রংপুরের পীরগাছা থানা এলাকায় নিহতের ভাগ্নে শাহরিয়ার  কবির সৌমিক মিমি আকতার নামে ১৫ বছর বয়সের  এক মেয়েকে অপহরন করেছে মর্মে মামলা রয়েছে। এ মামলায় মামা মনোয়ার হোসেন বকশীও এবং তার বড় ভাই আসামী ছিলেন। পীরগাছা থানার এস আই মনোরঞ্জন বর্মন থানার রিকুইজেশান নিয়ে সাভার মডেল থানায় আসলে সাভার থানার একজন টহলরত এস আইকে নিয়ে আসামীকে ধরতে গিয়েছিল। পরবর্তীতে আসামী ছাদ থেকে লাফ দিলে তার মৃত্যু হয়। এক প্রশ্নের জবাবে সাভার মডেল থানার ওসি বলেন পীরগাছা থানার পুলিশ টিমের কিছু না বলে তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক। তিনি বলেন,তাদের এমন ভাবে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি। তারা ঘটনা স্থল হতে এভাবে চলে যেতে পারেন না। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে আগে চিকিৎসা কেন্দ্রে বা  হাসপাতালে নেওয়া তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঘটনার পর সাভার মডেল থানার ওসি পীরগাছা থানা ওসির সাথে কথা বলেছেন বলে জানান।

নিহতের পিতা মুহম্মদ জাফর আলী এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষ ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন তার ছেলের কোন অপরাধ নেই।  সে ছাদ থেকে লাফ দিতে পারে না।  পুলিশ হয়তো ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র দলের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  সুজন শিকদার অবিলম্বে মনোয়ার হোসেন বকশি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। ঘটনা স্থলে শুক্রবার সকালে এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয়  সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনি  বলেন,মনোয়ার হোসেন বকশিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে গেছে পুলিশ।  তারা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। এজন্য তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। ঘটনা স্থলে এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয় সাভার সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়  গুমের শিকার হওয়া শহীদুল ইসলামের সাথে।  তিনি বলেন যে মেয়েটির সাথে নিহত মনোয়ার হোসেন বকশির ভাগ্নের বিয়ে হয়েছে তারা ঘর সংসার করে ঢাকাতে অবস্থান করছেন। পুলিশ এমন মামলায় গভীর রাতে অভিযান পরিচলনা করতে পারে না। তাহলে ফ্যাসিবাদী আমলের পুলিশ আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুলিশের সাথে পার্থক্য রইলো না। তিনি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মনোয়ার হোসেন বকশিকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন আমি এ হত্যার বিচার দাবি করছি। এদিকে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষে এ ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।  ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়াদ্দী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির ঘটনা স্থল পরিদর্শন:

সাভারে পুলিশের অভিযান কালে ৫ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে থানা ছাত্র দলের সহ সভাপতি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মনারুল হোসেন বকশী হত্যার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির পধান ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম,অপস ও ট্রাফিক উত্তর)  জাহাঙ্গীর আলম অপর দুই সদস্য সাভার সার্কেল অফিসার রাকিবুল হাসান নিশান ও সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম  শনিবার লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় নিহত মনারুল হোসেন বকশিদের বাসা ও বাসার ছাদ পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া কমিটির সদস্যরা যেখানে নিথর দেহ পড়েছিল সেই স্থান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

এদিকে শনিবার রংপুরের পীর গাছায় গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক গোরস্থানে  নিহতের লাশ দাফন করা হয়েছে। সেখানে লাশ পৌঁছার পরে এলাকা বাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button