সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: প্রতিমন্ত্রী
শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়
তাজা খবর: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় এক ও অভিন্ন-আমরা সবাই বাংলাদেশি। দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করে দেশের মানুষের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাভার উপজেলার পূজামণ্ডপসমূহের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ-এ চেতনাকে ধারণ করে আমরা পথ চলতে চাই। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে, দেশপ্রেমকে শক্তি হিসেবে নিয়ে আমরা দেশ গড়তে চাই। এ দেশ আমাদের সবার। তাই দেশকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সবার।
দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। এ সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কেউ যেন কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।
প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোতে মনিটরিং টিম গঠন করে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
কিশোর অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কিশোরদের মাদক, অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
দুর্গাপূজার সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি যার যার জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি দুটোই কমবে।
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সব সময় অন্যায় ও অধিকারহরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমরা যদি এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে এমন কোনো শক্তি নেই, যারা ষড়যন্ত্র করে এ দেশের ক্ষতি করতে পারে। তাই সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সরকার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে।
তিনি বলেন, পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনের এমপি ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, আশুলিয়া থানা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি আশীষ কুমার নাগ ও সাধারণ সম্পাদক শম্ভু চন্দ্র সরকার এবং সাভার উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বরুণ ভৌমিক নয়নসহ অন্যান্যরা। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম সভা সঞ্চালনা করেন।



