সাভারে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সামির গ্রেপ্তার
রাজধানীর সদরঘাট জনশন রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়
তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির সামিরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট জনশন রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত মাহাবুব হোসেন সামির সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। সম্প্রতি তাকে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন সাভার মডেল থানায় লাবনী বেগম নামে এক নারী লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়, তার খালাতো ভাই শামীম রেজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে মাদক ব্যবসায়ী ভাইয়ের জামিনের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মাহাবুব হোসেন সামির। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ পর্যন্ত ৬ দফায় তার নেতৃত্বে সশস্ত্র সহযোগীরা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ মে রাজাশন আমতলায় শামীম রেজার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, নগদ ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট এবং গ্যারেজ থেকে ১২টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। একই সময় গ্যারেজের ক্যাশবক্স থেকে আরও ৯০ হাজার টাকা লুট করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ মে পুনরায় গ্যারেজে হামলা চালিয়ে আরও ছয়টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ১২ জুন সকালে আরও পাঁচটি অটোরিকশা, ১৬ জুন ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
১২ জুন একই দিনের রাতে শামীম রেজার বাসায় ঢুকে তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, নারীকে লাঞ্ছিত করা, শিশুকে আছাড় দেয়া, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে মাহাবুব ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে সাভার মডেল থানায় মাহাবুব হোসেন সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়।
এদিকে, গত ২ জুন রিপন ঋষি নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী কিশোরকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতন চালায় মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের হয়। এ ঘটনায় তাকে থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান বলেছেন, গ্রেপ্তার মাহাবুব হোসেন সামিরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।



