শিক্ষা ও সংস্কৃতি

জাবিতে দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৯

বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন এলাকার সামনে ঘটনা

তাজা খবর: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দোকানের দখল নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই হলের অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন এলাকার সামনে ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছে। দোকানগুলো নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর মালিকানা ছাড়তে রাজি ছিলেন না।

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা হলের সামনে চারটি দোকানে তালা মারার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল চত্বরে অবস্থান নেন। সেই সময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয় শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, ‌‘হতাহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।’

সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় বলেন, ‘দোকানের মালিকানা নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন সিন্ডিকেট সভা চলাকালীনই তৎপর হয় এবং সমঝোতার চেষ্টা শুরু করে। সকাল থেকে দুই হলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হলেও কাজী নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা শেষ বৈঠকে যেতে গড়িমসি করে। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের উসকানিতে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রথমে দোকানে ভাঙচুর, পরে হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হন। এসময় এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান, পরে তাকে মেডিকেলে পাঠানো হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন চাইছে, শিক্ষার্থীরা যেন নিজ নিজ হলে ফিরে যায়। আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্তে যেতে পারবো।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button