অর্থনীতি

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে অন্যতম প্রধান ভোক্তা বাজার: বিডা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের চার ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ বসবাস করে

তাজা খবর: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ বৈশ্বিক ভোক্তা বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চার ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ বসবাস করে যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রসারের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে।’

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আশিক চৌধুরী বলেন, বিগত শতকের অর্থনৈতিক বিপ্লব ইউরোপ ও আমেরিকায় ঘটলেও আগামী শতাব্দীর অর্থনৈতিক বিস্তার ঘটবে এশিয়ায়।

তিনি বলেন, দেশের বড় বিনিয়োগকারীরা এখনো বাংলাদেশকে মূলত একটি উৎপাদনশীল কেন্দ্র বা কারখানা হিসেবে দেখে থাকেন। তবে বড় সমস্যা হলো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তৈরি না হওয়া। এটি মোবাইল ফোন, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতো, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করবে ।

বাংলাদেশকে একটি ‘তরুণ দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে আশিক মাহমুদ বলেন, এখানকার মানুষের গড় বয়স মাত্র ২৭ বছর। ফলে দেশের উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু রপ্তানিকারককে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) খাতকে সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড রপ্তানিতে সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করবে।

রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস নয়, রপ্তানিতে বৈচিত্র্যকরণ (ডাইভারসিফিকেশন) প্রয়োজন।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ও ডিজিটাইজেশন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরাসরি অনলাইনে নিবন্ধন করতে ও বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো কাজ হলেও এখনো অনেক দূর যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘মেলায় অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৬০ ভাগই নারী, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য অবশ্যই বড় কিছু করা প্রয়োজন।’

মেলায় অংশ গ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশই নারী যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button