ছাত্রত্ব শেষে হলে থাকার সুযোগ প্রত্যাখ্যান জাকসুর, প্রজ্ঞাপন বাতিলে আলটিমেটাম
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে হলে থাকার একটি বৈধতা তৈরি করা হয়েছে
তাজা খবর: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাকসু ও হল সংসদের নেতাদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে জাকসু নেতারা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে জাকসুর প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানান তারা। এদিকে বিষয়টি প্রশাসনিক সভায় পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে জাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দকে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে জাকসুর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি জাকসু বা হল সংসদের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই প্রথম দিন থেকেই আমরা এ বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়, ছাত্র সংসদের পরিচয় বা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে হলে থাকার সুযোগ পেতে পারে না। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে হলে থাকার একটি বৈধতা তৈরি করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে আমরা জানতে চেয়েছিলাম এ ধরনের সুবিধা চেয়ে জাকসু বা হল সংসদের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়েছিল কি না। জবাবে উপাচার্য আমাদের জানান,জাকসু বা হল সংসদের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি; প্রশাসন নিজস্ব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা উপাচার্যের কাছে দাবি জানিয়েছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে হলে অবস্থানরত সব অছাত্র ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমান নীতি প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই অবৈধ সুবিধাকে উৎসাহিত করতে পারে না।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। প্রশাসনিক সভায় আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, জাকসু প্রতিনিধিরা এক বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে অনেকের শিক্ষার্থী হিসেবে মেয়াদ এক বছরের কম ছিল। আবার জাকসুর গঠনতন্ত্রেও এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর প্রশাসনিক সভায় মত হয়, শিক্ষার্থীরা যেহেতু এক বছরের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন, তাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পূর্ণ মেয়াদে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। সেই বিবেচনায় এবং গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম, জাকসুর অনেক নেতা শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর হলে থাকতে চান না, আবার কেউ কেউ থাকতে চান। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি এসেছে এবং আমরা প্রশাসনিক সভায় এটি আবারও উত্থাপন করব।
উপাচার্য বলেন, জাকসুর একজন এজিএস প্রস্তাব দিয়েছেন, কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে এই সুবিধা নিতে চান, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করবেন; পুরো জাকসুর নামে এমন সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয়। প্রশাসনিক সভায় এ প্রস্তাবটিও বিবেচনা করা হবে।
২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। প্রয়োজনে জাকসুর সঙ্গে বসে গঠনতন্ত্রের যে অস্পষ্টতাগুলো রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমি একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাস করি। জাকসু, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত সমাধানে পৌঁছাতে চাই।
তিনি বলেন, এটি একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। একদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক বছরের ম্যান্ডেটের বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী হিসেবে হলে থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। উভয় দিক বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বরাদ্দকৃত আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকেই জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এর বিরোধিতা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।



