অপরাধ ও দুর্নীতি

জাবির মেডিকেল সেন্টারে ওষুধকাণ্ডে স্টোর কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (সিএমও) ড. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধেও তদন্তের সিদ্ধান্ত

তাজা খবর: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে ওষুধের হিসাব-নিকাশে গরমিলের ঘটনায় স্টোরের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (সিএমও) ড. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধেও তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে স্টোর কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্তের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে মেডিকেল সেন্টারের স্টোর থেকে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের হিসাব পাওয়া যায়নি। এসব ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর স্টোরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশক্রমে কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহ ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

একই আদেশে ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রবকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলাউদ্দিন মোল্লা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ওষুধের হিসাব-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমানকে তার কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে তদন্ত এবং দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button