অপরাধ ও দুর্নীতি

তোফাজ্জল হত্যা: আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে লাপাত্তা ঢাবি শিক্ষার্থী

শুনানিকালে ডেকেও আইনজীবী ও আসামিকে পাওয়া যায়নি

তাজা খবর: প্রায় দেড় বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের এই শিক্ষার্থী আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

জানা গেছে, রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে অনিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিনের আবেদন জমা দেন। তবে শুনানিকালে আসামি উপস্থিত ছিলেন না।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, রাশেদ কামাল অনিক নামে এক আসামির আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিনের আবেদন জমা পড়ে। তবে শুনানিকালে ডেকেও আইনজীবী ও আসামিকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে রাশেদ কামাল অনিকের আইনজীবী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা দেখিয়ে তিনি কল কেটে দেন। আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

এরআগে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ২৮ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া পিবিআইর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পলাতকদের মধ্যে রাশেদ কামাল অনিকও রয়েছেন।

অপর আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, ওই হলের আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।

এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন অপর ২২ আসামি।

২০২৪ সালের গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দেয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাত জনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

নিহত তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স করলেও মানসিক সমস্যার কারণে কোনো কাজকর্ম করছিলেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button