সারা বাংলা

দক্ষ যুবসমাজ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে

তাজা খবর: দেশের বিশাল যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

তিনি বলেছেন, ‘যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করতে হবে।’

শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ‘নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় আমিনুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া ট্রেডগুলো বাদ দিয়ে নতুন ও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং এবং তৃতীয় ভাষা শেখানোর প্রশিক্ষণ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে।

যুবকদের স্বাবলম্বী করতে দেওয়া সরকারি ঋণের অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ঋণের অর্থ কোনোভাবেই অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না।’

সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সময়মতো অফিসে আসা এবং নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

প্রশিক্ষিত যুবদের সঠিক মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়া যুবকদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণের ধরন ও কর্মসংস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব আকারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি চার মাস পরপর সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button