সারা বাংলা

পদত্যাগের পর মুখ খুললেন মো. সাহাবুদ্দিন

সাংবিধানিকভাবে সরকার গঠনের ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতিরই থাকে

তাজা খবর: পদত্যাগের কারণ এবং সাম্প্রতিক নানা গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছি এবং আমাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবর অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মুঠোফোন সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের মেয়াদের সংকটকালীন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করেছি। আমি তো নিজেকে নিয়ে প্রাউড ফিল করি, এমন একটা সংকট থেকে সংবিধানকে ধরে রেখেছি এবং সেভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দিয়েছি। সাংবিধানিকভাবে সরকার গঠনের ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতিরই থাকে। এরপর নির্বাচন হলো, এখন নির্বাচিত সরকার দেশ চালাচ্ছে। বলতে গেলে এটি তো আমারই কৃতিত্ব।

তিনি বলেন, আমি চিঠিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়েছি, সেটাই আসল সত্য। মিডিয়াতে নানা কথা হচ্ছে, এগুলো অপতথ্য, ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত। নিজের মনে যা চাইল তা লিখে দিল, আর সেটা নিয়ে সবাই টানাটানি শুরু করে দিল।

পদত্যাগের পেছনে কোনো চাপ বা কোনো ফোন এসেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, না, না, এগুলো বাজে কথা। সব মিথ্যা।

বঙ্গভবনে অবস্থান ও পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী আট মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি দ্রুতই নিজের বাসায় চলে যাবেন। তিনি বলেন, আইনে আট মাস থাকার কথা থাকলেও যত দ্রুত সম্ভব আমি নিজের বাসায় চলে যাব। আমি কোনো অপরাধী নই। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মাথা উঁচু করে কাজ করেছি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ দফা ৩ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ০১ মিনিটে আমার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। অসুস্থ থাকার কারণে তিনি মাঝে মাঝেই অচেতন হয়ে পড়েন। এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া হাফিজ উদ্দিন বলেন, কোনো প্রকার বিছিন্ন ঘটনা ছাড়াই পদত্যাগের মাধ্যমে ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কঠিন সময়ে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সে হিসাবে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন ঘটল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button