সাভারে দুই ভুয়া ‘পুলিশ’ জনতার হাতে আটক
সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে
তাজা খবর: ঢাকার সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে এক নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, তার মোবাইলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদর ইউনিয়নের কলমা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- মো মনির ও আমিনুল ইসলাম। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের দিকে দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে কলমা এলাকার এক নারীর বাড়িতে যান। তারা ওই নারীকে বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতা ও মামলার ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। একপর্যায়ে মোবাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুলতে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করেন। এরপর ওই নারীর ছেলের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর করে নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ঘটনার সময় দুই ব্যক্তির আচরণ ও পরিচয় নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চান, মনির ও আমিনুল ইসলাম নামে কোনো সদস্য ওই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন কি না। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই নামে তাদের কোনো সদস্য নেই এবং এমন কোনো অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে না।
এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়রা দুই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে বিকেলে তাদের সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ, ডিবি, র্যাব বা অন্য কোনো সংস্থার সদস্য পরিচয় দিলে তার পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তারা।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটক দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইনে মামলা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর কলমা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ধারী কোনো ব্যক্তির আচরণে সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট ইউনিটে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



