অপরাধ ও দুর্নীতি

সাভারে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু: ২০ লাখ টাকায় রফাদফা, বিচারকরাই বাটে নিলেন ১০ লাখ!

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি

তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভারের ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড’-এ নাকের পলিপাস অপারেশন করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় আবরাহাম নামে নয় বছরের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে প্রভাবশালী একটি চক্রের মধ্যস্থতায় ঘটনাটি ২০ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিহতের পরিবার পেয়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকা; আর বাকি ১০ লাখ টাকা শালিসকারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে পৌর এলাকার মুক্তির মোড়ে অবস্থিত লন্ডনাস রেস্টুরেন্টের ভিতরে রেস্টুরেন্টটির মালিক ঢাকা জেলা ছাত্রদলে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও জনৈক আবুল কালাম তাপসের উপস্থিতিতে এবং তাদের মধ্যস্থতায় স্ট্যাম্পে লিখে মৃতের স্বজনদের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার পার্শ্ববর্তী রাজাবাড়ী এলাকার আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে বুধবার নাকের সাধারণ পলিপাস অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয় ১১ বছরের শিশু আবরাহামকে। কিন্তু অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে অস্ত্রোপচার কক্ষেই শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তখন জরুরি বিভাগের দায়িত্ব চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন এবং শিশুটি আগেই অসুস্থ ছিল বলে দায় এড়ানোর বাহানা খোঁজেন।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর শিশুর স্বজনা আব্বাস হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভের পর ভিতরে ঢুকে রিসিপশনসহ বিভিন্ন দরজার কাচ ভাঙচুর করে। পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইনি ঝামেলা এড়াতে হাসপাতালের মালিকপক্ষ দ্রুত স্থানীয় কতিপয় নেতা, প্রভাবশালী মাতব্বরের শরণাপন্ন হয়।

শিশু আবরাহাম (১১) মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার রাজনগর নোয়াদ্দা এলাকায় মায়ের সাথে বসবাস করত। তার বাবা আল আমিন দুবাই প্রবাসী।

শিশুটির মামা মোঃ রুবেল বলেন, যে চলে গেছে সে তার ফেরত আসবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমঝোতার জন্য শিশু আবরাহামের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। আমাদের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে যা হাসপাতাল ভাঙচুর করেছিল এ ব্যাপারে ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিবে না এই শর্তে আমরা সমঝোতা করেছি।

যদিও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে লন্ডনাস রেস্টুরেন্টের মালিক সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে আপস-মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি। যারা বিচার সালিশ করে আপোষ করেছে তারাও দশ লাখ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালই আমাদের, আমরা আবার টাকা নেব। টাকা কি এতই সস্তা।

এদিকে, সমঝোতার পর পর রাতেই শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিনা ময়নাতদন্তে লাশ গ্রহণ করে নিজ গ্রামে নিয়ে যায়।

তবে আপস মিমাংসার সময় ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়াও সাভার মডেল থানায় ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা কর হয়েছে বলেও শোনা গেছে।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আপস মীমাংসা হয়েছে শুনেছি। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

এ বিষয়ে জানতে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিনের মুঠোফোন একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনও সাড়া দেননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button