অপরাধ ও দুর্নীতি

সাভারে ডিবির ২ কর্মকর্তাসহ ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরির অভিযোগ

ডিবি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের নামে অর্থ দাবি করে হয়ারানি

তাজা খবর: ঢাকা জেলার সাভারের আশুলিয়ায় মাদক উদ্ধারের নামে এক নারী শ্রমিকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার চুরি এবং মাদক না পেলেও মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই নাফিউল ইসলাম পিপিএম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরে করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে জানার কথা স্বীকার করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম

অভিযুক্ত ডিবির অন্য সদস্যরা হলেন, ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল আইয়ুব আলী, মোঃ আমিনুল, মাহাবুব, সোর্স আমিনুলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন।

এদিকে একের পর এক ডিবি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের নামে অর্থ দাবি করে হয়ারানি এবং সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে মাদকবিরোধী ও অপরাধবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ডিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী শ্রমিকের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১ টারদিকে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল হাজী আলাউদ্দিন স্কুল সংলগ্ন নিজ বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন রুমা আক্তার বন্যা। এ সময় ‘ঢাকা মিন্টু রোড ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মোঃ আইয়ুব আলী, মোঃ আমিনুল ও মোঃ মাহাবুবসহ কয়েকজন তার বাসায় প্রবেশ করেন। পরে বাসায় তল্লাশী চালিয়ে কোন মাদক না পেলেও মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই নাফিউল।

ভুক্তভোগী নারীর শ্রমিকের অভিযোগ, এসআই নাফিউলের দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে ডিবি পুলিশকে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের শেষ এখানেই নয়।

ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন, ডিবির সদস্যরা টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার পর তিনি ঘরে ঢুকে সমস্ত মালামাল এলোমেলো দেখতে পান। পরে ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ারে থাকা একটি ব্যাগে গচ্ছিত তিনটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পোশাক শ্রমিক বন্যার অভিযোগ, তল্লাশির সময় তার অনুপস্থিতিতে ওই স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনটি ডিবি সদস্যরাই নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিবির এসআই নাফিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারীও আমার কাছে এসেছিলেন এবং ঘটনাটি আমি শুনেছি। তাদের সঙ্গে আমিনুল নামে একজন সোর্স ছিলো যে ওই নারীর কাছ থেকে টাকাটি নিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সোর্স আমিনুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গতঃ ডিবির এসআই নাফিউল ও এএসআই সালাম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া এলাকার তুলা মিয়ার ছেলে চিহ্নিহ ইয়াবা ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলামকে এবং উত্তর সুয়ারপুর এলাকার ইব্রাহিমসহ আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের পর মাদক কম দেখিয়ে মামলা সহজ করে দেয়ার কথা বলে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button